চোরবাগান দুর্ঘটনার তদন্তে নতুন জট, ১৬টি CCTV ক্যামেরার ফুটেজ অধরা

0 minutes, 1 second Read

কলকাতা: উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন করে জট তৈরি হয়েছে। মণ্ডপ ও তার আশপাশে বসানো ৩২টি CCTV ক্যামেরার মধ্যে ১৬টির ফুটেজ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ফলে ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তকারীদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

চোরবাগান দুর্ঘটনায় কী ঘটেছিল?

গত ১৭ অক্টোবর উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে প্রবল ভিড়ের মধ্যে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন।

প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মণ্ডপের কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে বলে মাইকে ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। বৃষ্টি, অতিরিক্ত ভিড় এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথে চাপের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং বিভিন্ন পক্ষের দায় এখনও তদন্তের বিষয়।

১৬টি CCTV ক্যামেরার ফুটেজ কোথায়?

তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে CCTV ফুটেজ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মণ্ডপ ও তার আশপাশে মোট ৩২টি ক্যামেরা বসানো ছিল। কিন্তু তার মধ্যে ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ এখনও পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার আগে ও পরে দর্শনার্থীদের চলাচল, প্রবেশ ও প্রস্থানপথে ভিড়ের পরিস্থিতি এবং মাইকে ঘোষণা করার সময় কী ঘটেছিল, তা বোঝার জন্য এই ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই বাকি ফুটেজ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

তবে ফুটেজ পাওয়া না যাওয়ার কারণ কী, ক্যামেরাগুলি কাজ করছিল না কি রেকর্ডিং সংক্রান্ত অন্য কোনও সমস্যা হয়েছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

পুজো উদ্যোক্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ

ঘটনার তদন্তে পুজোমণ্ডপের নকশা, নির্মাণ, দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, মণ্ডপের নকশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে এবং ঘটনার রাতে দায়িত্বে থাকা ১২ জন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, বিপুল দর্শনার্থীর ভিড় সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না, জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে মানুষকে বের করে আনার পরিকল্পনা ছিল কি না এবং মাইকে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল।

তদন্তে বিশেষ দল, তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট

চোরবাগান দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে রাজ্য সরকার ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করেছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে এই দলকে তিন মাসের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তদন্তের আওতায় রয়েছে CCTV ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, মণ্ডপের নকশা, ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা। দুর্ঘটনার পিছনে কোনও প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনাগত গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

উঠছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

চোরবাগান দুর্ঘটনার তদন্তে এখন কয়েকটি প্রশ্ন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

৩২টি ক্যামেরার মধ্যে ১৬টির ফুটেজ কেন পাওয়া যাচ্ছে না?

মণ্ডপ ভেঙে পড়ার ঘোষণা কে করেছিলেন এবং কী কারণে?

অতিরিক্ত ভিড়ের সময় প্রবেশ ও বেরোনোর পথ নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি?

দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন কি?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিললেই দুর্ঘটনার ঘটনাক্রম আরও স্পষ্ট হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে দায়ী বলে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *